ঢাকা    রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা ইনসাইড

চার দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা


প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

চার দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা
আদালতে পুলিশি পাহারায় সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষফাইল ছবি: প্রথম আলো

নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, অবৈধ অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগে করা মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আবু বকর। তিনি বলেন, শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান।

কারাগারে যাওয়া দুই আসামি হলেন লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা (৪৩) ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ (৪৭)।

আদালত সূত্র জানায়, চার দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ। আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাঁদের রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র চিহ্নিত করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের প্রয়োজন হতে পারে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।

এর আগে ১১ অক্টোবর গভীর রাতে পল্লবীর নিজ বাসা থেকে কাজী গুলশান আরাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর তথ্যের ভিত্তিতে দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বনানীর বাসা থেকে দেবাশীষকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ১২ অক্টোবর তাঁদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পল্লবীতে কাজী গুলশান আরার বাসায় বসে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টার্স আলফা ১’ ও ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত থেকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সরকারবিরোধী তহবিল সংগ্রহ এবং সহিংসতায় উসকানিমূলক কনটেন্ট তৈরি করে প্রচার করতেন। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার অ্যান্ড পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। ‘কালআজকাল ডটকম’ নামের একটি ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত আইডি ব্যবহার করেও সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার মতো কনটেন্ট প্রচার করা হতো বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনের আগে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন কাজী গুলশান আরা। পরে তিনি ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আসামিরা সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কুৎসামূলক প্রচার ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছিলেন। তাঁদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গুপ্তচরের যোগাযোগ রয়েছে বলেও এজাহারে দাবি করা হয়।

এ ঘটনায় পল্লবী থানার পরিদর্শক মো. আলী আকবার বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ১২৪ ক ধারা, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯-এর ১৮(১), ১০, ১১ ও ১২ ধারা এবং সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২৫ ধারায় এই মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়।

বিষয় : গ্রেপ্তার আদালত কারাগার রিমান্ড

বাংলা ইনসাইড

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


চার দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, অবৈধ অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগে করা মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আবু বকর। তিনি বলেন, শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান।

কারাগারে যাওয়া দুই আসামি হলেন লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা (৪৩) ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ (৪৭)।

আদালত সূত্র জানায়, চার দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ। আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাঁদের রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র চিহ্নিত করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের প্রয়োজন হতে পারে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।

এর আগে ১১ অক্টোবর গভীর রাতে পল্লবীর নিজ বাসা থেকে কাজী গুলশান আরাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর তথ্যের ভিত্তিতে দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বনানীর বাসা থেকে দেবাশীষকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ১২ অক্টোবর তাঁদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পল্লবীতে কাজী গুলশান আরার বাসায় বসে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টার্স আলফা ১’ ও ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত থেকে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সরকারবিরোধী তহবিল সংগ্রহ এবং সহিংসতায় উসকানিমূলক কনটেন্ট তৈরি করে প্রচার করতেন। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার অ্যান্ড পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। ‘কালআজকাল ডটকম’ নামের একটি ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত আইডি ব্যবহার করেও সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার মতো কনটেন্ট প্রচার করা হতো বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনের আগে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন কাজী গুলশান আরা। পরে তিনি ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আসামিরা সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কুৎসামূলক প্রচার ও ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছিলেন। তাঁদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গুপ্তচরের যোগাযোগ রয়েছে বলেও এজাহারে দাবি করা হয়।

এ ঘটনায় পল্লবী থানার পরিদর্শক মো. আলী আকবার বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ১২৪ ক ধারা, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯-এর ১৮(১), ১০, ১১ ও ১২ ধারা এবং সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২৫ ধারায় এই মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়।


বাংলা ইনসাইড

সম্পাদনা: আনোয়ার সাদাৎ
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা ইনসাইড