ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা ইনসাইড

সিরিয়া নিয়ে উত্তেজনা, এরদোগানকে ইসরাইলের হুঁশিয়ারি


প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সিরিয়া নিয়ে উত্তেজনা, এরদোগানকে ইসরাইলের হুঁশিয়ারি
তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। সংগৃহীত ছবি

সিরিয়ায় তুরস্কের সম্ভাব্য সামরিক উপস্থিতি নিয়ে ইসরাইল ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। দখলদার দেশটি তুরস্ককে সিরিয়ায় ‘বিপজ্জনক দুঃসাহসিকতা’র থামাতে বলেছে। পালটা বক্তব্যে সিরিয়ায় ‘বেপরোয়া’ হামলা বন্ধে ইসরাইলকে আহ্বান জানিয়েছে আঙ্কারা।

গত মঙ্গলবার সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় রানওয়ে ও সামরিক সরঞ্জাম রাখার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইসরাইলের দাবি, সিরিয়া ওই ঘাঁটিতে তুরস্কের সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর বলেছে, তুরস্কের সেনা মোতায়েন হলে তা ইসরাইলের সঙ্গে বিদ্যমান নিরাপত্তা সমঝোতার ‘স্থিতাবস্থা’ লঙ্ঘন করত।

তবে তুরস্ক ও সিরিয়া এই দাবি অস্বীকার করেছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি বলেছেন, আবু আল-দুহুরে তুরস্কের কোনো সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল না। তার দাবি, তুরস্কের সামরিক কর্মকর্তারা সেখানে গিয়েছিলেন প্রশিক্ষণ ও সামরিক সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার আগে বা হামলার সময় ঘাঁটিতে কোনো তুর্কি সামরিক প্রতিনিধি দল ছিল না। একই সঙ্গে ইসরাইলকে সিরিয়ায় ‘বেপরোয়া হামলা’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে আঙ্কারা।

ঠিক এমন সময়ে দখলদার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে সতর্ক করে বলেছেন, সিরিয়ায় তুরস্ককে ‘বিপজ্জনক দুঃসাহসিকতায়’ টেনে নেওয়া এবং ইসরাইলের আত্মরক্ষার দৃঢ়তা পরীক্ষা করা উচিত নয়।

সিরিয়ায় তুরস্কের প্রভাব বাড়ায় ইসরাইলের উদ্বেগও বাড়ছে। বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নতুন সিরীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে আঙ্কারা। তুরস্ক সিরিয়ার সামরিক সক্ষমতা ও অবকাঠামো পুনর্গঠনে সহযোগিতা করছে।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রও হস্তক্ষেপ করেছে। ওয়াশিংটন ইসরাইল, তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যে একটি ‘ডি-এস্কেলেশন’ বা সংঘাত এড়ানোর যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই ব্যবস্থা সামরিক ভুল বোঝাবুঝি থেকে ভবিষ্যৎ সংঘাত ঠেকাতে সাহায্য করবে।

বিষয় : ইসরাইল তুরস্ক সিরিয়া

বাংলা ইনসাইড

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


সিরিয়া নিয়ে উত্তেজনা, এরদোগানকে ইসরাইলের হুঁশিয়ারি

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সিরিয়ায় তুরস্কের সম্ভাব্য সামরিক উপস্থিতি নিয়ে ইসরাইল ও তুরস্কের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। দখলদার দেশটি তুরস্ককে সিরিয়ায় ‘বিপজ্জনক দুঃসাহসিকতা’র থামাতে বলেছে। পালটা বক্তব্যে সিরিয়ায় ‘বেপরোয়া’ হামলা বন্ধে ইসরাইলকে আহ্বান জানিয়েছে আঙ্কারা।

গত মঙ্গলবার সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় রানওয়ে ও সামরিক সরঞ্জাম রাখার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইসরাইলের দাবি, সিরিয়া ওই ঘাঁটিতে তুরস্কের সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর বলেছে, তুরস্কের সেনা মোতায়েন হলে তা ইসরাইলের সঙ্গে বিদ্যমান নিরাপত্তা সমঝোতার ‘স্থিতাবস্থা’ লঙ্ঘন করত।

তবে তুরস্ক ও সিরিয়া এই দাবি অস্বীকার করেছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি বলেছেন, আবু আল-দুহুরে তুরস্কের কোনো সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল না। তার দাবি, তুরস্কের সামরিক কর্মকর্তারা সেখানে গিয়েছিলেন প্রশিক্ষণ ও সামরিক সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার আগে বা হামলার সময় ঘাঁটিতে কোনো তুর্কি সামরিক প্রতিনিধি দল ছিল না। একই সঙ্গে ইসরাইলকে সিরিয়ায় ‘বেপরোয়া হামলা’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে আঙ্কারা।

ঠিক এমন সময়ে দখলদার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে সতর্ক করে বলেছেন, সিরিয়ায় তুরস্ককে ‘বিপজ্জনক দুঃসাহসিকতায়’ টেনে নেওয়া এবং ইসরাইলের আত্মরক্ষার দৃঢ়তা পরীক্ষা করা উচিত নয়।

সিরিয়ায় তুরস্কের প্রভাব বাড়ায় ইসরাইলের উদ্বেগও বাড়ছে। বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নতুন সিরীয় নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে আঙ্কারা। তুরস্ক সিরিয়ার সামরিক সক্ষমতা ও অবকাঠামো পুনর্গঠনে সহযোগিতা করছে।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রও হস্তক্ষেপ করেছে। ওয়াশিংটন ইসরাইল, তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যে একটি ‘ডি-এস্কেলেশন’ বা সংঘাত এড়ানোর যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই ব্যবস্থা সামরিক ভুল বোঝাবুঝি থেকে ভবিষ্যৎ সংঘাত ঠেকাতে সাহায্য করবে।


বাংলা ইনসাইড

সম্পাদনা: আনোয়ার সাদাৎ
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা ইনসাইড