ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা ইনসাইড

হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু


প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
ছবি: ফাইল

দেশে আজ শনিবার সকাল আটটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৯৪৩ শিশু। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৬৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ সময়ে মোট ৯৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৭ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৮৬৪ শিশু। এ সময়ে ৭৮৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে ৮০৭ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব মতে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৫৫ হাজার ৬৭৮। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৮৫৩ জনের। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট এক লাখ ৩৬ হাজার ২৫৭ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে এক লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে।

টিকার ঘাটতিতে বাড়ছে সংক্রমণ

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে শুরু করে। গত কয়েক বছরে শিশুদের নিয়মিত টিকা দেওয়ার হার কমে যাওয়াকে সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। 

এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে হামের টিকার ঘাটতি এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি।

হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, বড়দের মধ্যে যারা হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের অবস্থা গুরুতর নয়। যথাযথ চিকিৎসায় তারা সুস্থ হয়ে উঠছেন। বর্তমানে পাঁচ থেকে ছয়জন বড় রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি বলেন, শিশুদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলেন, বড়দের মধ্যে যারা ক্যান্সারের চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপি নিচ্ছেন কিংবা কিডনি ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন, হামের ক্ষেত্রে তাদের ঝুঁকি বেশি। বড়রা হাম আক্রান্ত হলেও সাধারণত সুস্থ হয়ে ওঠেন। মূলত শিশুরাই হামের ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। এ কারণেই শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হয়।

বিষয় : হামের উপসর্গ

বাংলা ইনসাইড

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দেশে আজ শনিবার সকাল আটটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৯৪৩ শিশু। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৬৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৯ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ সময়ে মোট ৯৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৭ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৮৬৪ শিশু। এ সময়ে ৭৮৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে ৮০৭ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব মতে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৫৫ হাজার ৬৭৮। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৮৫৩ জনের। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট এক লাখ ৩৬ হাজার ২৫৭ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে এক লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে।

টিকার ঘাটতিতে বাড়ছে সংক্রমণ

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে শুরু করে। গত কয়েক বছরে শিশুদের নিয়মিত টিকা দেওয়ার হার কমে যাওয়াকে সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। 

এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে হামের টিকার ঘাটতি এবং মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি।

হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, বড়দের মধ্যে যারা হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের অবস্থা গুরুতর নয়। যথাযথ চিকিৎসায় তারা সুস্থ হয়ে উঠছেন। বর্তমানে পাঁচ থেকে ছয়জন বড় রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি বলেন, শিশুদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলেন, বড়দের মধ্যে যারা ক্যান্সারের চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপি নিচ্ছেন কিংবা কিডনি ডায়ালাইসিস করাচ্ছেন, হামের ক্ষেত্রে তাদের ঝুঁকি বেশি। বড়রা হাম আক্রান্ত হলেও সাধারণত সুস্থ হয়ে ওঠেন। মূলত শিশুরাই হামের ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। এ কারণেই শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হয়।


বাংলা ইনসাইড

সম্পাদনা: আনোয়ার সাদাৎ
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা ইনসাইড