ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
বাংলা ইনসাইড

‘ঘন ঘন তারিখ দিলে কষ্ট হয়, আইনজীবীর ফি দিতে পারি না’


প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

‘ঘন ঘন তারিখ দিলে কষ্ট হয়, আইনজীবীর ফি দিতে পারি না’
বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন শিক্ষার্থী রাতুল হাসান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন।

জেরা শেষে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের আর্থিক দুর্দশার কথা তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মামলার আসামি সাবেক বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম। তিনি ঘন ঘন শুনানির তারিখ না দেওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে অনুরোধ জানান।

কথা বলার অনুমতি নিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেদোয়ানুল বলেন, ‘ঘন ঘন তারিখ দিলে আমার খুব কষ্ট হয়। আইনজীবীর টাকাও দিতে পারি না। আর্থিকভাবে তেমন কোনো সঞ্চয়ও নেই। একটু লম্বা বিরতি দিয়ে তারিখ দিলে ভালো হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে যে বেতন পাই, তা খুবই সামান্য। এই টাকা দিয়ে সংসার চালাব, নাকি আইনজীবীর ফি দেব, বুঝতে পারি না।’

এ সময় রেদোয়ানুলের আইনজীবী শাহীনুর ইসলামের কাছে বিষয়টি জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। জবাবে আইনজীবী বলেন, তাঁর কাছ থেকে ‘রিজনেবল ফি’ নেওয়া হচ্ছে।

এরপর প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, আসামির মূল চাওয়া ঘন ঘন তারিখ পেছানো নয়। বরং মামলার বিচার দ্রুত শেষ হওয়া। অল্প দিনের ব্যবধানে শুনানি হলে বিচারকাজ দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক বলেন, ‘রেদোয়ানুলের এই বক্তব্য আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে।’

পরে অসমাপ্ত জেরার জন্য আগামী ২ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন অন্য কোনো মামলা রাখা হবে না বলেও জানান বিচারক।

মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম। পলাতক আসামিরা হলেন ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।

তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চার আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।

বিষয় : আইনজীবী মামলা আদালত বিজিবি

বাংলা ইনসাইড

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


‘ঘন ঘন তারিখ দিলে কষ্ট হয়, আইনজীবীর ফি দিতে পারি না’

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় ২৮ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন শিক্ষার্থী রাতুল হাসান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা করেন।

জেরা শেষে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের আর্থিক দুর্দশার কথা তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মামলার আসামি সাবেক বিজিবি কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম। তিনি ঘন ঘন শুনানির তারিখ না দেওয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে অনুরোধ জানান।

কথা বলার অনুমতি নিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেদোয়ানুল বলেন, ‘ঘন ঘন তারিখ দিলে আমার খুব কষ্ট হয়। আইনজীবীর টাকাও দিতে পারি না। আর্থিকভাবে তেমন কোনো সঞ্চয়ও নেই। একটু লম্বা বিরতি দিয়ে তারিখ দিলে ভালো হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে যে বেতন পাই, তা খুবই সামান্য। এই টাকা দিয়ে সংসার চালাব, নাকি আইনজীবীর ফি দেব, বুঝতে পারি না।’

এ সময় রেদোয়ানুলের আইনজীবী শাহীনুর ইসলামের কাছে বিষয়টি জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। জবাবে আইনজীবী বলেন, তাঁর কাছ থেকে ‘রিজনেবল ফি’ নেওয়া হচ্ছে।

এরপর প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, আসামির মূল চাওয়া ঘন ঘন তারিখ পেছানো নয়। বরং মামলার বিচার দ্রুত শেষ হওয়া। অল্প দিনের ব্যবধানে শুনানি হলে বিচারকাজ দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক বলেন, ‘রেদোয়ানুলের এই বক্তব্য আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে।’

পরে অসমাপ্ত জেরার জন্য আগামী ২ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিন অন্য কোনো মামলা রাখা হবে না বলেও জানান বিচারক।

মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম। পলাতক আসামিরা হলেন ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।

তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চার আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।


বাংলা ইনসাইড

সম্পাদনা: আনোয়ার সাদাৎ
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা ইনসাইড